সিলেটে শুরু ২৪তম চারুকলা প্রদর্শনী, শিল্পকলাকে উৎকর্ষ কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: আমীর হোসেন সোহাগ, সিনিয়র স্টাফ রিপোটার :
সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ২৪তম চারুকলা প্রদর্শনী গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। বিকেলে সিলেট শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু প্রথাগত উৎসব-অনুষ্ঠানের গণ্ডিতে আটকে রাখলে চলবে না। এগুলোকে প্রকৃত অর্থে মেধা অন্বেষণ ও সুস্থ চিন্তার ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও প্রযুক্তি) মাসুদ রানা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) পদ্মসেন সিনহা, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর প্রতিনিধি বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, যমুনা অয়েল কোম্পানির পরিচালক কবি ও বাচিকশিল্পী সালেহ আহমদ খসরু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার আল মামুন বিন সালেহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর জীবনযাত্রার উদাহরণ টেনে বলেন, দেশের মানুষ একটি সাদাসিধে ও জনবান্ধব নেতৃত্বই প্রত্যাশা করেছিল। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পাশে থেকে সবাইকে কাজ করতে হবে, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে সম্মানের চোখে পরিচিত হয়।
তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমির কাজ শুধু গান, নাচ বা আবৃত্তি আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও জীবনবোধের বাস্তব প্রতিফলন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। সংস্কৃতি মঞ্চের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক জীবনধারার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, শিল্পকলা একাডেমিকে নিছক সরকারি কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ না রেখে অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষ সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবে। ইতিহাসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই ছবি ও চিত্রকলা ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বাহক হিসেবে কাজ করেছে।
সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তাদের আঁকা আলপনা ও গ্রাফিতিতে দেশের মানুষের আবেগ, ক্ষোভ ও সহমর্মিতা শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া তরুণ শিল্পীদের উদ্দেশ্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের শিল্পীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে কেউ হয়তো বিশ্বখ্যাত লুভর মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ মিউজিয়াম-এ স্থান করে নেবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুদের ওপর পছন্দ চাপিয়ে না দিয়ে তাদের আগ্রহ ও সক্ষমতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। সঠিক পথনির্দেশনা দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব হলেও, সন্তানের নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা মানসিক চাপ ছাড়াই প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিশু ও সাধারণ বিভাগে দুইজন শিল্পীকে ‘প্রদর্শনী শ্রেষ্ঠ পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতি বিভাগে মোট আটজন শিল্পীকে সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির ২৪তম চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
এবারের প্রদর্শনীতে চারুকলা বিভাগের ৭৮ জন শিক্ষার্থীর জলরং, অ্যাক্রেলিক, প্যাস্টেল ও স্কেচসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা ১১৩টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :