বাজেটে রাজস্ব সংগ্রহের উচ্চ লক্ষ্য, সামনে বিদেশি ঋণ পরিশোধ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

মূল্যস্ফীতির চাপে সীমিত আয়ের মানুষের জীবন দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলানো ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়েছে। নানা সংকটে বাস্তব জীবনে বাড়ছে দারিদ্র্য। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি। যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার এই হার কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ধরেছে।

স্বস্তি দিতে এবারের বাজেটে ৬০ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সরকার। তবে এসব উদ্যোগ কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, বরাবরের মতো এবারও রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে এই ঘাটতির অঙ্ক এক লাখ কোটি টাকার বেশি। ফলে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের অর্থ আসবে কোথা থেকে, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদ ড. এম আবু ইউসুফ মনে করেন, রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাই সমস্যার মূল। তাঁর ভাষায়, দেশে করদাতার সংখ্যা তুলনামূলক কম এবং অটোমেশন না থাকায় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অনেক কর ও ভ্যাট সরকারের কোষাগারে পৌঁছায় না। এই জায়গায় সংস্কার হলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

ব্যবসায়ী মহলেও রয়েছে উদ্বেগ। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাজেটের আকার বাড়লেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ে, কিন্তু করজালের পরিধি বাড়ে না। ফলে যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপরই বাড়তি চাপ এসে পড়ে।

প্রস্তাবিত বাজেটের আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা বিশাল ঘাটতি। বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (ডিসিসিআই)–এর সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকার যদি আবারও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে, তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণ সংকট থেকেই যাবে। এতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং বাজেট ঘাটতির টেকসই সমাধান- এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ