পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগীর মারামারিতে এক জনের মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: ইমরান হোসেন, পাবনা সদর প্রতিনিধি :
পাবনা মানসিক হাসপাতাল-এ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত দুই রোগীর মারামারিতে ইনজামুল হক (২৬) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরেক রোগী নাজমুল ইসলাম (২৮)। দুজনই হাসপাতালের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ রোববার (৭ জুন) বিকেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ৩ জুন ভোরে হাসপাতালের আবাসিক ওয়ার্ডে এই মারামারির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২ জুন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার খোঁজাখালি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে নাজমুল ইসলাম এবং ঝিনাইদহের রাজনগর গ্রামের মৃত গোলাম নবীর ছেলে ইনজামুল হককে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভোররাতে ওয়ার্ডের ভেতর দুই রোগীর মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ইনজামুল মারা যান। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন নাজমুল।
এ ঘটনায় নিহত ইনজামুলের ভাই ইজাজুল হক বাদী হয়ে ৩ জুন পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নাজমুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী বিলকিস খাতুন বলেন, তার স্বামী দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী যে মাঝে মাঝে উত্তেজিত ও সহিংস হতে পারেন, তা ভর্তি করার সময় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। সেই অবস্থায়ও কেন যথাযথ নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাজমুলের বাবা আব্দুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। পরে হাসপাতাল থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কাগজপত্র তৈরি করে আবার কৌশলে ফের ওয়ার্ডে আটকে রাখা হয়। বর্তমানে তার ছেলে এখনও হাসপাতালে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, মামলার বাদী ইজাজুল হক বলেন, দুইজন অতি ঝুঁকিপূর্ণ মানসিক রোগীকে একই ওয়ার্ডে রাখা এবং মারামারির সময় তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ না করা চরম অবহেলার শামিল। তার দাবি, এটি কেবল একজন রোগীর অপরাধ নয়; রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট রেখা আক্তার বলেন, অনেক সময় রোগীরা আপাতদৃষ্টিতে শান্ত থাকলেও হঠাৎ চরম সহিংস হয়ে ওঠে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সীমিত জনবল নিয়ে রোগী নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি ঘিরে মানসিক হাসপাতালের রোগী নিরাপত্তা, নজরদারি ও জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :