সরকারি বিদ্যালয়ে নিয়ম ভেঙে পাঠদান, মাঠের জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি :

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১০১ নম্বর বনগ্রাম খালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত এক সহকারী শিক্ষকের পরিবর্তে কয়েক মাস ধরে একজন নারীকে দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ১২৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা চারজন। স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক-এর অনুপস্থিতিতে গত দুই থেকে তিন মাস ধরে ইতি আক্তার নামে এক নারী বিভিন্ন শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

এ বিষয়ে ইতি আক্তার বলেন, তিনি গত কয়েক মাস ধরেই বিদ্যালয়ের একাধিক শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করেন, অসুস্থতার কারণে তিনি মাসিক সাত হাজার টাকার বিনিময়ে ইতি আক্তারকে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে রেখেছেন।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক মোঃ মোসাদ্দেকুর রহমান ভিন্ন বক্তব্য দেন। তাঁর দাবি, প্রক্সি শিক্ষক রাখার বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক কিছুই জানাননি। পাঠদান ব্যাহত না করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থায়নে ইতি আক্তারকে দায়িত্ব দিয়েছে।

দায়িত্বশীল দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে—কে কোন বিধিমালার আওতায় প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবু বক্কর সিদ্দিক মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে এলেও অধিকাংশ সময় ক্লাস নেন না। তার নির্ধারিত ক্লাসগুলো নিয়মিত ইতি আক্তারই পরিচালনা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে কাদা তৈরি হয়েছে। ফলে টিফিন ও অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া বিধিমালার পরিপন্থী হতে পারে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মাঠ সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, শিক্ষক অনুপস্থিত থেকে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের অনুপস্থিতি এবং অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ