উপদেষ্টা হয়েও পাথর তোলা বন্ধ রাখতে পারলাম না : রিজওয়ানা হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, উপদেষ্টা হওয়ার পরও তিনি সিলেটের জাফলং ও ভোলাগঞ্জ এলাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখতে পারেননি। আগের চার বছর জাফলংয়ে পাথর তোলা বন্ধ রাখা সম্ভব হলেও এবার তা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
১১ আগস্ট সোমবার এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, পাথর উত্তোলনে সর্বদলীয় ঐক্য দেখছি। অথচ জাফলং রক্ষায় কোনো ঐক্য নেই। অপূর্ব সুন্দর একটি জায়গা আমাদের চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখলাম। ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’ এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে, যা দেখে মনে হয় যেন সৌন্দর্য নষ্ট করাই লক্ষ্য।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, দেশের মোট পাথর চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ পূরণ হয় এসব এলাকা থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে, বাকিটা আমদানি করতে হয়। ৯৪ ভাগ আমদানি করতে পারলে বাকি ৬ ভাগ কেন আমদানি করা যাবে না? প্রশ্ন রাখেন রিজওয়ানা হাসান।
জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করে ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, পাথর তুলে যে আয় হয়, তার চেয়ে বেশি আয় সম্ভব ইকো-ট্যুরিজম থেকে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো তুলনামূলক বিশ্লেষণ কেউ করে না। পাথর তোলা কোনো টেকসই কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি এক ধরনের শোষণ।”
প্রসঙ্গত, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের ‘সাদাপাথর’ এলাকা ধলাই নদীর উৎসমুখে, সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন ১০ নম্বর এলাকায় অবস্থিত। প্রতিবছর এখানকার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে লাখো পর্যটক ভিড় জমায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে দিন-রাত অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছে, আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। ফলে মনোমুগ্ধকর এলাকা এখন প্রায় বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :