ইরান যুদ্ধে বড় ক্ষতির মুখে যুক্তরাষ্ট্র, তথ্য গোপন নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু প্রতিপক্ষের হামলাই নয়, নিজেদের ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর কারণেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এসব ক্ষতির প্রকৃত তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২.৩ থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মার্ক ক্যানসিয়ান জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন বিমান, রাডারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ক্ষতি নিজেদের গুলিতেও হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্চের শুরুতে কুয়েতে এক ঘটনায় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের থাড (THAAD) মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী রাডার ধ্বংস হয়, যার ক্ষতির পরিমাণ ৪৮৫ থেকে ৯৭০ মিলিয়ন ডলার।

সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ২৭ মার্চ, যখন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস-এ হামলায় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি উন্নত রাডার নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু সামরিক সাফল্য পেলেও কৌশলগতভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ওমর আশুর বলেন, রাজনৈতিক কারণে পূর্ণ স্বচ্ছতা দেখাতে চায় না ওয়াশিংটন, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের তথ্য প্রকাশে সতর্ক।

এদিকে যুদ্ধের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও জটিলতা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত ধাক্কা।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবুও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ