স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে তৎপর বিএনপি, তিন মানদণ্ডে প্রার্থী চূড়ান্তের ভাবনা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ এখনো ঘোষণা না হলেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থী চূড়ান্তে তিনটি মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় পর্যায়েও জোটবদ্ধ ভোটের কৌশল নিয়ে ভাবছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

দলের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযাচিত হস্তক্ষেপ নিয়ে সাংগঠনিক সভায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক, এখানে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।

এখনো নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। এমনকি নির্বাচন কমিশন–এর প্রস্তুতিও দৃশ্যমান নয়। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নভেম্বর–ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল আসবে। এই বার্তা ইতোমধ্যে বিএনপির তৃণমূলে পৌঁছে গেছে, ফলে সমর্থন প্রত্যাশী প্রার্থীরা মাঠে নামতে শুরু করেছেন।

প্রার্থীদের ভাষ্য, তারা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত। নতুন করে কিছু করার নেই। তবে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও এলাকায় গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই শেষ পর্যন্ত দল সমর্থন দেবে, এমন প্রত্যাশা তাদের।

দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থী থাকেন। বাস্তবে একেকটি ইউনিয়ন পরিষদেই বিএনপির সমর্থন চান চার-পাঁচজন প্রার্থী। কেউ স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ, কেউ আবার ভিন্ন ভিন্ন বলয়ের। এতে ভেতরের প্রতিযোগিতা সামলানোও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই সঙ্গে মাঠে থাকবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির একক প্রার্থী, পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও স্বতন্ত্রভাবে ভোটে নামতে পারেন। এই বাস্তবতায় কৌশলী ভূমিকা নিচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আঞ্চলিকতা, গোষ্ঠীগত বাস্তবতা ও এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই প্রার্থী সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান জানান, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দলের প্রতি ত্যাগ ও অবদান এবং সামগ্রিক যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী বাছাই হবে। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সিনিয়র বা জুনিয়র কোনো নেতাই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ রাখেন না। প্রয়োজনে অন্য দলের প্রার্থীকেও সমর্থন দেওয়া হতে পারে।

এর আগে ৯ মে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রশাসনিক বা দলীয় প্রভাবে কাউকে বিজয়ী করার সুযোগ নেই। আগেভাগেই বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুগপৎ শরিকদের ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। ভোট যেমন বিতর্কমুক্ত রাখতে হবে, তেমনি জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে বড় ধরনের বিজয়ও দরকার। এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করাই এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ