রাঙ্গামাটির কাউখালীতে মসজিদ ভাঙার অভিযোগে মানববন্ধন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মো: সুমন খান, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের গোদারপাড় এলাকায় একটি পুরোনো জামে মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদটি ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। বর্তমানে অনেক মুসল্লিকে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গোদারপাড় বাইতুল আমান জামে মসজিদটি ১৯৮৫ সালে ডাক্তরছোলা ও চিকনছড়া সমাজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এলাকাবাসীর অর্থায়নে এটি সেমিপাকা করা হয় এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ফাউন্ডেশনসহ নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মুসল্লি এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শায়েখ জমির উদ্দিন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা পরিচালনাকারী আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন গত ২১ থেকে ২৭ জুনের মধ্যে মসজিদটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। তাদের আরও দাবি, এর আগে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট মসজিদের নিয়ন্ত্রণও পরিবর্তন করা হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বা অনুমতি ছাড়াই মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অনেক মুসল্লিকে খোলা স্থানে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
মসজিদ কমিটির সদস্য আব্দুল ছালাম সওদাগর বলেন, এটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং এলাকার মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি আইনগতভাবে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চান।
এ ঘটনায় মসজিদ কমিটি আদালতে মামলা করলে আদালত কাউখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আউয়ালিন খালেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের উদ্দেশ্য মসজিদ ধ্বংস করা নয়। একই স্থানে আরও আধুনিক, বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এলাকাবাসী উন্নত পরিবেশে ইবাদত করতে পারেন।
এদিকে, মসজিদটি যে জমিতে নির্মিত ছিল, সেটির মালিকানা নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। এক পক্ষের দাবি, এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি; অন্য পক্ষের দাবি, জমিটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন।
বর্তমানে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আদালতের তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :