পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী :

কোরবানি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান মাধ্যম। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির বাস্তব শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন—
“অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।” (সূরা কাউসার, আয়াত: ২)

কোরবানির ইতিহাস আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর সেই মহান আত্মত্যাগের ঘটনায়। সূরা ছাফফাতে আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা করেছেন, কীভাবে আল্লাহর আদেশ পালনে পিতা ও পুত্র উভয়েই নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁদের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি মহান পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, কোরবানি কেবল পশু জবেহ নয়; বরং আল্লাহর আদেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দেওয়ার নাম।

হাদিস শরিফে কোরবানির ফজিলত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“কোরবানির দিনে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করা। কিয়ামতের দিন কোরবানির পশু তার শিং, খুর ও পশমসহ উপস্থিত হবে। রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে তা কবুল হয়ে যায়। সুতরাং আনন্দচিত্তে কোরবানি করো।” (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)

আরেক হাদিসে কোরবানির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, এটি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে— এমনকি পশম যত বেশি, সওয়াবও তত বেশি। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ)

প্রিয় নবী (সা.) আরও সতর্ক করে বলেছেন, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না, তার জন্য রয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা। এমন ব্যক্তিকে ঈদগাহের কাছেও না আসতে বলা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ)

সুতরাং কোরবানি আমাদের জন্য শুধু একটি সামাজিক বা আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়। এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে তাঁর নির্দেশ মেনে যথাযথভাবে কোরবানি আদায় করার তাওফিক দান করেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ