মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ঈমানের প্রকাশ, ইসলামি শিক্ষায় সহমর্মিতার গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
ইসলাম ডেস্ক :
মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন সে সরাসরি সাহায্য চায় না, কিন্তু তার নীরবতা, কষ্ট আর আচরণই বলে দেয় সে বিপদে আছে। ইসলাম এমন পরিস্থিতিতে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, কোনো মুমিন যদি কারো উপকার করার সামর্থ্য রাখে, তবে তার উচিত সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের অংশ, যা মুসলিমদের পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা দেয়।
একটি হাদিসে বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে।” (মুসলিম, হাদিস: ৫৬২৪)
ইসলামে উপকারকে শুধু অর্থনৈতিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং একটি সহানুভূতিশীল কথা, সঠিক পরামর্শ, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা কারো কষ্ট লাঘব করাও উপকারের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।” (সূরা মায়েদা, আয়াত: ২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, একজন মানুষ তখনই পূর্ণ ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেই জিনিসই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। (তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৫)
ইসলামি বর্ণনায় আরও এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দুনিয়ার বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তার বিপদ দূর করবেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৪৬)
ধর্মীয় আলেমদের মতে, মানুষের কল্যাণে কাজ করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ঈমানের বাস্তব প্রতিফলন। দুনিয়াতে এর প্রতিদান দৃশ্যমান হোক বা না হোক, আল্লাহ কোনো নেক কাজই বিফলে যেতে দেন না।
শেষ পর্যন্ত ইসলাম শেখায়, মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসাই একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়, আর এভাবেই সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :