কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজনিন হত্যার ঘটনায় সিএনজি চালক চট্টগ্রামে আটক


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা সংবাদদাতা :

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজনিন হত্যার ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলায় পারিবারিক কবরস্থানে তাজনিনকে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা শহরের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় তাজনিন। কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজনিন। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ বুধবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের জানায়, সে বান্ধবীর বাসায় রয়েছে। ওই দিন মধ্যরাতে বাবা আব্দুল আলিমের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে নিজের লাইভ লোকেশনও শেয়ার করে সে। পাশাপাশি তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাসা থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল কিশোরীটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লায় আসার পর সে আবার কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজনিন। ওই দিন রাত ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে সে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলের কাছ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে সিএনজিচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, ফরিদা বিদ্যাতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ মজুমদার জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাজনিন তাঁদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল। এরপর সে অন্য একটি বিদ্যালয়ে চলে যায়।

ঘটনার বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ