রুপেশরী নদী পার হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, সেতুর অভাবে স্কুলগামী শিশুদের চরম দুর্ভোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সাইদুর রহমান জিয়া, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ঘিলাঘড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রুপেশরী নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর ওপর কোনো স্থায়ী সেতু বা নিরাপদ সাঁকো না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। তখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কেউ বই-খাতা মাথার ওপর তুলে সাঁতরে নদী পার হতে হয়, আবার কেউ কলাগাছের তৈরি অস্থায়ী ভেলায় ভর করে স্কুলে পৌঁছায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর, লক্ষ্মীপুর, ঘিলাগড়া ও কলতাপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ থেকে ১১০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে যাতায়াত সম্ভব হলেও বর্ষাকালে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারে না। ফলে বর্ষা মৌসুমে উপস্থিতি নেমে আসে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জনে।
অভিভাবকরা জানান, স্থায়ী পারাপার ব্যবস্থা না থাকায় তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সবসময় আতঙ্কে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষায় ডুবে যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক পরিবার সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। দ্রুত একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হোসেন রানা বলেন, বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে আসে। কেউ সাঁতরে, কেউ ভেলায় পার হয়—যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সেতু নির্মাণ না হলে শিক্ষার ক্ষতি আরও বাড়বে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুর নবী তালুকদার জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন :