ভুয়া পরিচয়ে ১৪ বছর ধরে সেটেলমেন্ট অফিস চালাচ্ছেন বিল্লাল!
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
মো: শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টার :
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে সরকারি নিয়োগপত্র ছাড়াই দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে “সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার” পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এক ব্যক্তি এমন বিস্ময়কর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মো. বিল্লাল হোসেন, পিতা: মো. ইসলাম উদ্দিন, গ্রাম: মাঝাইর, ইউনিয়ন: পলাশ, উপজেলা: বিশ্বম্ভরপুর, জেলা: সুনামগঞ্জ।
ভুয়া পরিচয়ে সরকারি অফিস দখলে :
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে বিল্লাল হোসেন কোনো সরকারি পদে নিযুক্ত না হয়েও নিয়মিত বিশ্বম্ভরপুর সেটেলমেন্ট অফিসে উপস্থিত হন। অফিসে তার জন্য নির্দিষ্ট টেবিল, চেয়ার, আলমারি এমনকি সরকারি ফাইল ও সিল ব্যবহারের অধিকারও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে- তিনি সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখকদের (মুহুরি) সহায়তায় ‘নামজারি’, ‘ডিপি’ ও ‘পর্চা’সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্র তৈরি ও হস্তান্তর করে আসছেন।
অফিসের কিছু সূত্র জানায়, বিল্লালের মাধ্যমে ৫০০ টাকায় মেলে ১৫০ টাকার সরকারি সেবা, যেখানে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ফাইল নিষ্পত্তি করা হয়। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
‘মাস্টাররোলে চাকরি করি’ বিল্লালের দাবি"দৈনিক আমার সংগ্রাম"-এর প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে বিল্লাল হোসেন দাবি করেন“আমি মাস্টাররোলে চাকরি করি ১৪ বছর ধরে। আগে জীবন বাবু, বিমল বাবু, অলিউর রহমান ও সেটেলমেন্ট অফিসার সঞ্চায়ন তালুকদারের ড্রাইভার ছিলাম। এখন অফিসে দায়িত্ব পালন করছি।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের রেকর্ড অনুযায়ী, তার নামে কোনো সরকারি নিয়োগপত্র বা অফিসিয়াল অনুমোদনপত্র নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- কীভাবে একজন ব্যক্তি কোনো নিয়োগ ছাড়াই সরকারি অফিসের নথিপত্রে প্রবেশাধিকার পেলেন?
এদিকে হুমকির মুখে "সাংবাদিক"অভিযোগ প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সাংবাদিক মো. শুকুর আলী একাধিকবার অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।
তার দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল বিল্লালকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
জনগণের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, বিল্লাল হোসেনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে।সরকারি অফিসে নথি ও সিলমোহরের অপব্যবহার বন্ধে নজরদারি জোরদার করতে হবে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেরিনা দেবনাথ বলেন,“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেউ যদি সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও এমন পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকে, তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তদন্ত চলছে- প্রমাণ মিললে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বম্ভরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বলেন,“সরকারি পরিচয়ে প্রতারণা বা অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ প্রেরিত দপ্তরসমূহ বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে :
১. মহাপরিচালক, জরিপ অধিদপ্তর, ঢাকা।
২. সিনিয়র সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়।
৩. মহাপরিচালক, এনএসআই সদর দপ্তর, ঢাকা।
৪. মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রেস সচিব।
৫. সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ জামাতে ইসলাম, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা।
স্থানীয়দের ভাষায়, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিশ্বম্ভরপুরের ভূমি প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :