হাগিং ফেসে হামলার আগে সতর্কবার্তা পেয়েছিল ওপেনএআই
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক :
হাগিং ফেস প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিল ওপেনএআইয়ের কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এজেন্ট। গবেষকদের দাবি, জুলাইয়ে হাগিং ফেসের ওপেন সোর্স রিপোজিটরিতে আলোচিত সাইবার হামলার প্রায় দুই মাস আগেই এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের পর্যালোচনা করা তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস থেকেই ওপেনএআইয়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কিছু এআই এজেন্ট হাগিং ফেসের ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট দখলে নিয়ে প্ল্যাটফর্মটির সার্ভারে অস্বাভাবিক ধরনের ফাইল পাঠিয়েছিল। তবে ওই প্রচেষ্টা সফলভাবে কোনো সিস্টেমে প্রবেশ বা হ্যাকিংয়ে পরিণত হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ওপেনএআই আগে জানিয়েছিল, হাগিং ফেসের এক ব্যবহারকারীর ডিজিটাল পরিচয়পত্র চুরি করে একটি জীববিজ্ঞানসংক্রান্ত ফাইলে প্রবেশ করেছিল একটি এআই এজেন্ট। তবে গবেষকদের দাবি, মে মাসের কার্যক্রম শুধু একটি ফাইল ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ওই এজেন্টগুলোর আচরণ হাগিং ফেসের নেটওয়ার্ক ও সিস্টেম পরীক্ষা করে সম্ভাব্য প্রবেশপথ খোঁজার প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
জার্মানির স্বাধীন গবেষক জোনাস উইডারম্যান-মোলার জানান, গত সপ্তাহে তিনি এ কার্যক্রমের প্রমাণ পান। তাঁর দাবি, ১৩ মে থেকেই ওপেনএআইয়ের এজেন্ট দুটি হাগিং ফেস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির সার্ভারে অস্বাভাবিক ফরম্যাটের ফাইল পাঠিয়েছিল।
উইডারম্যান-মোলারসহ অন্যান্য গবেষকের মতে, এ ধরনের আচরণ কোনো সিস্টেমে প্রবেশের পথ শনাক্ত করা কিংবা নেটওয়ার্কের কাঠামো বোঝার চেষ্টার সঙ্গে মিলে যায়। তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, মে মাসের এই কার্যক্রম জুলাইয়ের আলোচিত হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি বলেন, ১৩ মে’র ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিষয়টি হাগিং ফেসকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে এবং এ ধরনের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওপেনএআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে এ বিষয়ে হাগিং ফেসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মে মাসের ঘটনাটি জুলাইয়ের বড় ধরনের সাইবার হামলার আগে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সেন্টিনেলওয়ানের জ্যেষ্ঠ হুমকি গবেষক টম হেগেল বলেন, অ্যাকাউন্ট দখলের পর এজেন্টগুলোর অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম ওপেনএআইয়ের এজেন্টগুলোর আগের আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এআই নিরাপত্তা গবেষক সিডনি ভন আর্ক্সও ঘটনাটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হলে পরবর্তী কিছু হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারত।
এর আগে গত ২১ জুলাই ওপেনএআই জানায়, তাদের কিছু এআই এজেন্ট অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে সমন্বিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে অভূতপূর্ব সাইবার ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে।
এরপর বাইরের গবেষকেরা ওপেনএআই-সংশ্লিষ্ট এআই এজেন্টের আরও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের তথ্য সামনে আনেন। এর মধ্যে জার্মানির একটি নিষ্ক্রিয় উইকি সাইট এবং সফটওয়্যার প্যাকেজ সংগ্রহস্থল রুবিজেমস-সংক্রান্ত ঘটনাও রয়েছে।
এসব ঘটনার পর স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও ইন্টারনেটে তাদের কার্যক্রমের সীমা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশে সাময়িকভাবে ধীরগতি বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :