বিশ্বকাপে আঙুল ভাঙা নিয়েই খেলেছিলেন মার্তিনেজ, এখনো সেই যন্ত্রণায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
খেলাধুলা ডেস্ক :
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে গিয়ে আঙুলের ভাঙা হাড় নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অস্ত্রোপচার করালে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতো। ফলে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় চোট নিয়েই খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্তের মাশুল এখনো দিতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষককে। মার্তিনেজ জানিয়েছেন, তাঁর আঙুল আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না। এখনো ব্যথা নিয়েই খেলতে হচ্ছে তাঁকে।
৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই পুরো সময় মাঠে ছিলেন। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই তাঁকে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে।
গত মে মাসে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে তাঁর সাবেক ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে আঙুল ভেঙে যায় মার্তিনেজের। এরপরও বিশ্বকাপে খেলার জন্য অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মার্তিনেজ জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক কোচ মার্তিন তোকাল্লি এবং দলের চিকিৎসক দানি মার্তিনেজের সঙ্গে আলোচনা করেই অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ সময় আঙুলের বাড়তি সুরক্ষার জন্য ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস তাঁকে বিশেষভাবে তৈরি গ্লাভস সরবরাহ করে।
তবে অস্ত্রোপচার না করায় আঙুলের হাড় এখনো সঠিক অবস্থানে ফেরেনি। মার্তিনেজের ভাষায়, অস্ত্রোপচার করালে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠতেন এবং আঙুলও আগের অবস্থায় ফিরে যেত। কিন্তু তাতে বিশ্বকাপে খেলা সম্ভব হতো না। এখন তাঁর আঙুল আর কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না।
সাংবাদিক গাস্তন এদুলের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মার্তিনেজ।
তিনি বলেন, ‘আমি তখন জম্বির মতো ডাইভ দিতাম। এভাবে ডাইভ দেওয়ার পর উঠে হাত মাটিতে রাখলেই চোখে সরষে ফুল দেখতাম। প্রতিদিন রাত ১২টা পর্যন্ত কাঁদতাম। কারণ, আমার আঙুলটা রক্ত জমাট বাঁধা সসেজের মতো হয়ে গিয়েছিল।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে এমন ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘জাতীয় দলের জন্য এগুলো এমন ঝুঁকি, যা আপনাকে নিতেই হয়। আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আমি একই সিদ্ধান্ত নিতাম।’
এদিকে, ছয় বছর অ্যাস্টন ভিলায় কাটানোর পর চলতি গ্রীষ্মে চেলসিতে যোগ দেন মার্তিনেজ। এর আগে তাঁকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিল ইতালির ক্লাব জুভেন্টাস। তবে শেষ পর্যন্ত সেই দলবদল সম্পন্ন হয়নি। সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, আঙুলের চোটই ছিল দলবদল ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
মার্তিনেজ বলেন, ‘তারা বলেছিল, এ অবস্থায় আমার পক্ষে খেলা অসম্ভব। অস্ত্রোপচার করাতেই হবে। চেলসির এ নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না। তবে একসময় আপনাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে।’
অন্যদিকে, চেলসির অবস্থান সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের বিষয়টিকে গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে ক্লাবটি। স্বাভাবিকভাবে খেলার জন্য তাঁর অস্ত্রোপচার জরুরি নয় বলেও মনে করছে তারা।
সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস
আপনার মতামত লিখুন :