রোয়াংছড়িতে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম ও অপুষ্টিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার উদ্যোগ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

​চিংনুমং মারমা, রোয়াংছড়ি (বান্দরবান) প্রিতিনিধ :

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পর্যায়ক্রমে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম ও শিশু অপুষ্টিমুক্ত ইউনিয়ন গঠনের লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের ‘রোয়াংছড়ি এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার উসাইম্যা মারমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ম্যানেজার চাংম্বুগং। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উসাইচিং মারমা, তারাছা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উমংসিং মারমা, আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ভারতসেন তঞ্চঙ্গ্যা এবং নোয়াপতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ক্যনুপ্রু মারমা।

এ ছাড়া রোয়াংছড়ি সদর, তারাছা, আলেক্ষ্যং ও নোয়াপতং ইউনিয়নের স্থানীয় কারবারি, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ম্যানেজার চাংম্বুগং স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও কৌশল তুলে ধরা হয়।

সভায় বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় বাল্যবিবাহ ও শিশু অপুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কারবারি ও হেডম্যানদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো চিহ্নিত করা এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় নেতৃত্বকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, শিশু অপুষ্টি দূরীকরণ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও তাজমিন আলম তুলি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। একটি কিশোরীর বাল্যবিবাহ হলে সে অনেক সময় প্রয়োজনীয় যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে গ্রামভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিশু অপুষ্টি নিরসনে টেকসই ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

সভায় স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহের সামাজিক ঝুঁকি কমানো এবং শিশু অপুষ্টি দূরীকরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নিজ নিজ এলাকাকে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অংশগ্রহণকারীরা একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ