তিস্তার পানি বাড়ায় উত্তরাঞ্চলে প্লাবন ও ভাঙন, ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

ভারি বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর ভাটিতে হঠাৎ করে পানি বেড়ে গেছে। ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও পানির প্রবল চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিতে হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ার ফলে উত্তরের পাঁচ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রোববার বিকেলে গেটগুলো খুলে দেওয়ার পর রাত ১১টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনও। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৬টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর অভিযোগ, টানা দুই দিন ধরে পানিতে আটকে থাকলেও কেউ খোঁজখবর নেয়নি। তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছাসহ বিভিন্ন উপজেলার চর ও নিম্নাঞ্চলে বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

কালীগঞ্জের কাশীরাম এলাকার বাদাম চাষি লোকমান মিয়া জানান, লিজ নেওয়া জমিতে চাষ করা চিনাবাদামে পানি জমে পচন ধরেছে, গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফলন কমার পাশাপাশি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য, পানি কখনো কমছে আবার হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে। এই ওঠানামার কারণে আমন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে, নতুন করে বীজতলা তৈরির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক বুলু মিয়া বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। গবাদিপশু ও সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। চর রাজপুরের বাসিন্দা আসাদুল জানান, দুই দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, তিস্তার মধ্যবর্তী চরগুলোর কিছু পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, তালিকা পেলেই শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পানি কখনো বিপৎসীমার ওপরে আবার কখনো নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে দিনের বেলায় পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : বাসস


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ