কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে যেসব কৃষিপণ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে যাওয়ার সময় লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষির উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বাড়ানো এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে। দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বায়ু চলাচল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও ধান রোপণযন্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌরচালিত সেচব্যবস্থা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমানো সম্ভব বলে মত দেওয়া হয়।
কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বৈঠকে খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
আপনার মতামত লিখুন :