ব্যায়ামের সঠিক সময় জানলে বাড়তে পারে সুফল, বলছে গবেষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
লাইফ স্টাইল :
সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। হাঁটা, দৌড়ানো বা জিমে শরীরচর্চা—যেভাবেই হোক, অভ্যাসটা ধরে রাখাই সবচেয়ে জরুরি। তবে গবেষকরা বলছেন, শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, কখন ব্যায়াম করছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা বডি ক্লকের সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে এর উপকারিতা আরও বেড়ে যায়। যারা সকালে ঘুম থেকে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম বেশি কার্যকর হতে পারে। আর যারা রাতে বেশি সক্রিয় বা দেরিতে ঘুমান, তাদের জন্য বিকেল কিংবা সন্ধ্যার ব্যায়াম উপযোগী।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ওপেন হার্টে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের দেহঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ঘুমের মান উন্নত হয়, রক্তচাপ কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
এই গবেষণায় পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রায় ১৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগেরই অতিরিক্ত ওজন বা উচ্চ রক্তচাপের মতো ঝুঁকি ছিল। তাদের তিন মাস ধরে সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একদল ছিলেন ‘মর্নিং লার্ক’, অর্থাৎ যারা সকালে বেশি সক্রিয়। অন্যদল ছিলেন ‘নাইট আউল’, যারা রাতে বেশি জেগে থাকেন। দেখা গেছে, দুই দলই ব্যায়াম করে উপকার পেয়েছেন। তবে যারা নিজেদের স্বাভাবিক দেহঘড়ি অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, তারা তুলনামূলক বেশি সুফল পেয়েছেন।
গবেষকদের ভাষ্য, দেহঘড়ি আমাদের ঘুম, হরমোনের ভারসাম্য এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ব্যায়ামের ফলাফলেও এর প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সবার জন্য একই সময় আদর্শ নয়। নিজের জীবনযাপন, কাজের ধরন এবং শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ব্যায়ামের সময় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম অথবা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করার কথাও বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা, দৌড়ানো, শক্তি বৃদ্ধি এবং নমনীয়তা বাড়ানোর ব্যায়ামের সমন্বয়ই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আপনার মতামত লিখুন :