ঈদের ছুটিতে হামের ভয়াবহ থাবায় ৫৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসা নিল ৭ হাজারের বেশি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশে হামের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অন্তত ৫৭ শিশু। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ৭ হাজার ১২৭ জন শিশুকে।
আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে ঈদের দিনগুলো হাসপাতালে কাটাতে বাধ্য হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার। উৎসবের আনন্দের বদলে তাদের ঈদ কেটেছে শঙ্কা, উৎকণ্ঠা আর চিকিৎসার অপেক্ষায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এক হাজার ৩২৪ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে, ৭৯১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং ৫৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই দেশে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৭০ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে ৫৬ হাজার ৮৮৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৪৯ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত হাম ও এর জটিলতায় মারা গেছে মোট ৫৮৫ শিশু। প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৯ জনের বেশি শিশুর প্রাণ ঝরেছে। সর্বশেষ ১২তম সপ্তাহে, অর্থাৎ ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে মারা গেছে ৫৭ শিশু এবং আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ১২৭ জন।
হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট-এর শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে হামের সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হচ্ছে নিউমোনিয়া। এবারের নিউমোনিয়া অনেক ক্ষেত্রে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, হামের জ্বর বা র্যাশ কমে গেলে অনেক অভিভাবক মনে করেন শিশু সুস্থ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে রোগ সেরে যাওয়ার পরবর্তী চার থেকে ছয় সপ্তাহ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত কম থাকে, যা নতুন সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
আপনার মতামত লিখুন :