আয়োডিনের অভাবেই কি থাইরয়েডের সমস্যা বাড়ে? কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
লাইফ স্টাইল :
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জাঁতাকলে পড়ে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের জীবনে। তার মধ্যে অন্যতম হলো থাইরয়েড। নতুন প্রজন্মের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে ওবেসিটি, থাইরয়েডের মতো রোগের প্রকোপ। সেই থাইরয়েডের সমস্যায় জ্বালানির মতো কাজ করে আমাদের শরীরে থাক একটি খনিজ উপাদান। তা হলো আয়োডিন।
ছোট্ট মিনারেলটির দায়িত্ব কিন্তু অনেক। বিপাকহার নিয়ন্ত্রণ থেকে মস্তিষ্কের বিকাশ ও হরমোনের ভারসাম্য- সবকিছুর জন্যই এই মিনারেল অপরিহার্য। অথচ আমাদের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন থাকে না।
থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিনের ওপর নির্ভর করে এমন হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের শক্তি, তাপমাত্রা, হৃৎস্পন্দন ও বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে। পর্যাপ্ত আয়োডিন না থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে হাইপোথাইরয়েডিজম, ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধির মতো নানা সমস্যা দেখা যায়।
শরীরে আয়োডিনের চাহিদা মেটানোর সবচেয়ে ভালো উৎস আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া।
অথচ যাদের হার্টের সমস্যা আছে, তাদের জন্য লবণ বিষ স্বরূপ। ব্লাড প্রেসারের রোগী হলেও বাধ্য হয়ে ছাড়তে হচ্ছে লবণ খাওয়া। ফলে শরীরে দেখা যাচ্ছে আয়োডিন ঘাটতি।
কিভাবে মেটাবেন শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি :
দুগ্ধজাত পণ্য
দুধ, দই ও চিজ আয়োডিনের ভালো উৎস। গরুর খাদ্য ও দুগ্ধ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত আয়োডিনসমৃদ্ধ পদার্থের কারণে দুধে এই মিনারেল মিশে যায়।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে অর্গানিক বা লো-ফ্যাট দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য বেছে নিতে পারেন।
মাছ ও সামুদ্রিক খাবার
মাছ প্রেমীরা শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণে খেরতে পারেন মাছ। এর মধ্যে সামুদ্রিক মাছ, যেমন- কড, টুনা, চিংড়ি, ইলিশ, স্যামন মাছে রয়েছে ভরপুর আয়োডিন। এসব মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হৃদযন্ত্র ভালো রাখে।
ডিম
একটি মাঝারি আকারের ডিম, বিশেষ করে ডিমের কুসুমে ভালো পরিমাণে আয়োডিনের পাওয়া যায়। পাশাপাশি ডিমে রয়েছে প্রোটিন ও ভিটামিন ডি, যা বিপাক ও সামগ্রিক প্রাণশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আয়োডিনযুক্ত লবণ
খাদ্যতালিকায় আয়োডিনের কোনো প্রাকৃতিক উৎস না থাকলে রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে পারেন। তবে পরিমাণ হতে হবে যৎসামান্য। এক চিমটি লবণ প্রাত্যহিক চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। বেশি খেলে সোডিয়াম ইনটেক বেশি হওয়ার ভয় থাকে।
সি-উইড
সি-উইড বা সামুদ্রিক শৈবাল আয়োডিনের সবচেয়ে বড় উৎস। কেল্প, নরি, ও ওয়াকামে জাতীয় শৈবালে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন থাকে। সপ্তাহে কয়েকবার অল্প পরিমাণে খেলেই দৈনিক প্রয়োজন মিটে যায়। তবে অতিরিক্ত আয়োডিনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সূত্র : এই সময়
আপনার মতামত লিখুন :