যে পাঁচটি বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

কোরআনের বাণী :

কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে 

وَ عِنۡدَهٗ مَفَاتِحُ الۡغَیۡبِ لَا یَعۡلَمُهَاۤ اِلَّا هُوَ ؕ وَ یَعۡلَمُ مَا فِی الۡبَرِّ وَ الۡبَحۡرِ ؕ وَ مَا تَسۡقُطُ مِنۡ وَّرَقَۃٍ اِلَّا یَعۡلَمُهَا وَ لَا حَبَّۃٍ فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡاَرۡضِ وَ لَا رَطۡبٍ وَّ لَا یَابِسٍ اِلَّا فِیۡ كِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۵۹﴾

সরল অনুবাদ

(৫৯) আর গায়েবের চাবি তাঁরই কাছে রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত রয়েছেন, তাঁর অজানায় একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও অংকুরিত হয় না বা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

সুরা আনআমের ৫৯ নম্বর আয়াতটিতে আল্লাহ তাআলা তাঁর পূর্ণাঙ্গ ‘ইলম (জ্ঞান) ও সৃষ্টির উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করেছেন।

উভয় অনুবাদের সারকথা এক। কেননা, ‘চাবির মালিক’ বলেও ‘ভাণ্ডারের মালিক’ বোঝানো যায়। (ফাতহুল কাদির)
এখানে "চাবি বা ভান্ডার" দ্বারা বোঝানো হয়েছে সেই সব গুপ্ত বিষয়সমূহ, যেগুলো মানুষের সাধ্যের বাইরে। আল্লাহ ছাড়া এগুলো কেউ জানে না।

উভয় অনুবাদের সারকথা এক। কেননা, ‘চাবির মালিক’ বলেও ‘ভাণ্ডারের মালিক’ বোঝানো যায়। (ফাতহুল কাদির)

এখানে "চাবি বা ভান্ডার" দ্বারা বোঝানো হয়েছে সেই সব গুপ্ত বিষয়সমূহ, যেগুলো মানুষের সাধ্যের বাইরে। আল্লাহ ছাড়া এগুলো কেউ জানে না।

হাদিসে এসেছে, গায়েবের পাঁচ চাবি রয়েছে যা কেবল আল্লাহ জানেন: (১) কেয়ামতের সময় কবে হবে। (২) মাতৃ গর্ভে কী আছে। (৩) আগামীকাল মানুষ কী উপার্জন করবে। (৪) কোন স্থানে মানুষ মারা যাবে। (৪) কবে বৃষ্টি নামবে।

(সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৭৭৮)
কাজেই পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দ্বারা এ কথঅ প্রমাণিত যে,  গায়েবের জ্ঞান ও অসীম ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। কে কখন কোথায় জন্মগ্রহণ করবে, কি কি কাজ করবে, কতটুকু বয়স পাবে, কতবার শ্বাস গ্রহণ করবে, কতবার পা ফেলবে, কোথায় মৃত্যুবরণ করবে, কোথায় সমাধিস্থ হবে এবং কে কতটুকু রিজিক পাবে, কখন পাবে, বৃষ্টি কখন, কোথায়, কি পরিমাণ হবে, অনুরূপভাবে স্ত্রী লোকের গর্ভাশয়ে অস্তিত্ব লাভ করা ভ্রূণের ব্যাপারেও কারো জানা নেই যে, পুত্র না কন্যা, সুশ্রী না কুশ্রী, সৎস্বভাব না বদম্বভাব। ইত্যাদি বিষয়সমূহ সৃষ্ট জীবের জ্ঞান ও দৃষ্টি সীমা থেকে উহ্য রয়েছে এগুলো একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। সুতরাং (وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ) এর অর্থ এই দাঁড়ালো যে, গায়েবী বিষয়ের ভাণ্ডার আল্লাহরই কাছে রয়েছে। কাছে থাকার অর্থ করায়ত্ত ও মালিকানায় থাকা। উদ্দেশ্য এই যে, গায়েবী বিষয়ের ভাণ্ডারসমূহের জ্ঞান তার করায়ত্ত এবং সেগুলোকে অস্তিত্ব দান করা অর্থাৎ কখন কতটুকু অস্তিত্ব লাভ করবে- তাও তার সামর্থ্যের অন্তর্গত। কোরআনুল কারীমের অন্য আয়াতে বলা হয়েছেঃ “প্রত্যেক বস্তুর ভাণ্ডার আমার কাছেই রয়েছে। কিন্তু আমি প্রত্যেক বস্তু একটি বিশেষ পরিমাণে নাজিল করি।” (সুরা আল-হিজর, আয়াত : ২১)

আয়াতের শেষাংষ বলা হচ্ছে যে,  স্থলভাগ ও জলভাগের প্রতিটি ঘটনার খবর আল্লাহর কাছে স্পষ্ট। সমুদ্রের অগভীর থেকে গভীর তলদেশ পর্যন্ত, অরণ্যের অন্তঃস্থল থেকে মরুভূমির বালুকণা পর্যন্ত সবকিছু তাঁর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। মাটির ভেতর অদৃশ্য বীজ যেভাবে অঙ্কুরিত হয়, তার প্রতিটি ধাপ আল্লাহ জানেন। বিশ্বে যা কিছু জীবিত (রসযুক্ত) এবং যা কিছু মৃত বা শুষ্ক, সবই আল্লাহর জ্ঞানের অধীনে। এর মানে হচ্ছে, জগতের প্রতিটি অণু-পরমাণুর হিসাব তাঁর কাছে স্পষ্ট।

সুস্পষ্ট কিতাব (কিতাব মুবীন)

এর অর্থ হচ্ছে লাওহে মাহফূজ, যেখানে আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টির লিখিত পরিকল্পনা সংরক্ষণ করেছেন। কোরআন বারবার এ বিষয় উল্লেখ করেছে যে, কোনো কিছুই আল্লাহর পূর্ব জ্ঞানের বাইরে ঘটছে না।

এই আয়াত আমাদের শেখায়-

আল্লাহর জ্ঞান সর্বব্যাপী ও সীমাহীন। গায়েবের প্রকৃত জ্ঞান কেবল তাঁরই কাছে। মানুষের জ্ঞান সীমিত, আল্লাহ যা জানাতে চান কেবল তাই আমরা জানতে পারি। এ জ্ঞান আমাদের আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা, ভরসা ও তাকওয়ার দিকে ডাক দেয়।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ