জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ৫ বছরে উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ : প্রধানমন্ত্রী


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

নিউজ বাংলা ডেস্ক :

স্বল্প সামর্থ্য নিয়েই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগপূর্ণ ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের জলবায়ু সহনশীলতা আরও জোরদার করতে সরকার উচ্চাভিলাষী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের মধ্য দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে মিলিত হয়েছে। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ পানির কাছাকাছি বসবাস করেন। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এই ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় বিনিয়োগ করছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে সবুজ প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্পায়ন ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি চারটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো দ্রুত, গভীর ও ন্যায্যভাবে কার্বন নিঃসরণ কমানো; জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা; জলবায়ু-উপযোগী প্রযুক্তি, তথ্য ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

বক্তব্যের শেষভাগে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় শুধু অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষায় জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ