ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি দ্রুত পুনরুদ্ধার, ফের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
টানা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি দ্রুত পুনর্গঠন করে আবারও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুনরুদ্ধার শুধু তেহরানের সামরিক সক্ষমতাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা কৌশলের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের একাধিক ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথ ও সংযোগ সড়ক ধ্বংস হয়ে যায়। সে সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, এসব হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
তবে সিএনএন–এর পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্র ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। সেখানে দেখা যায়, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে ইরান দ্রুত টানেল ও প্রবেশপথ পরিষ্কার ও মেরামতের কাজ চালাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কেবল প্রবেশপথে আঘাত হেনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন।
যুদ্ধ চলাকালীন প্রবল ঝুঁকি সত্ত্বেও এসব পুনরুদ্ধার কাজ অব্যাহত রাখে ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একাধিকবার নির্মাণযন্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবুও সীমিত আকারে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তেহরান। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ঘাঁটি পুনর্গঠনের গতি আরও বেড়েছে।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ৬৯টি টানেল প্রবেশপথের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫০টি পুনরায় সচল করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও নতুন করে পিচ ঢালাইয়ের কাজও শেষ করা হয়েছে।
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার মনে করেন, উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও ইরানের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। তার ভাষায়, লঞ্চার ও অপারেটর থাকলে ইরান এখনো কার্যকর হামলা চালাতে পারবে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনের অনুসন্ধান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযানের পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিই এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি একাধিকবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার ও অবকাঠামো ধ্বংসকে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে পাহাড়ের শত শত মিটার নিচে নির্মিত এসব ঘাঁটি ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ। ফলে সাময়িক ক্ষতি হলেও দ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে তেহরান আবারও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জোরালো করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলছে।
আপনার মতামত লিখুন :