বোলারদের দাপটে আমিরাতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

খেলাধুলা ডেস্ক :

জিততেই হতো, না হলে এশিয়া কাপের পথচলা শেষ। এমন বাঁচা-মরার ম্যাচে ব্যাট হাতে আবারও হতাশ করেছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতার ঘাটতি দারুণভাবে পুষিয়ে দিয়েছেন বোলাররা। তাঁদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার রাতে দুবাইয়ে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে চাপে পড়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬৯ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মারুফা আক্তার। নতুন বল হাতে দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। চলতি টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে তাঁর শিকার এখন ৭ উইকেট।

মারুফাকে দারুণ সঙ্গ দেন একাদশে ফেরা লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার নেন ২ উইকেট। এছাড়া সুলতানা খাতুন ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে এবং ফাহিমা খাতুন ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই ব্যর্থ হয় আরব আমিরাত। প্রথম ওভারেই অধিনায়ক ইশা ওজাকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। পঞ্চম ওভারে সামাইরা ধরনিধরকাকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মারুফা।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে মাত্র ১৫ রান করতে পারে আরব আমিরাত, যা চলতি টুর্নামেন্টে তাদের সর্বনিম্ন পাওয়ার প্লে স্কোর। এরপরও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে রিনিথা রজথকে ফেরান রাবেয়া খান। এরপর তীর্থ সতীশকে আউট করেন সুলতানা খাতুন। এক ওভার পর লাবণ্য কেনিকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন নাহিদা আক্তার। মাত্র ৩৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় আরব আমিরাত।

এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসও শুরু হয়েছিল হতাশাজনকভাবে। প্রথম ওভারেই রানের খাতা না খুলে ফেরেন দিলারা আক্তার। পরের ওভারে মাত্র ৩ রান করে আউট হন সোবহানা মোস্তারি। মাত্র ৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন।

তবে ৩১ রানের জুটি ভেঙে ১৬ রান করে ফেরেন জুয়াইরিয়া। এরপর শারমিন আক্তার সুপ্তার সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জ্যোতি। কিন্তু ১১তম ওভারে ২৩ রান করে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

এরপর স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গেলে ৬ উইকেটে মাত্র ৫৫ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করান শারমিন আক্তার সুপ্তা ও নাহিদা আক্তার।

চলতি আসরে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া সুপ্তা নাহিদাকে সঙ্গে নিয়ে ৪৩ বলে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাঁর ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। অন্যদিকে নাহিদা ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁদের জুটির কল্যাণেই একশ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ।

আরব আমিরাতের হয়ে সুরক্ষা কোটারি ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।

এই জয়ে তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে নিগার সুলতানার দল।

এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। অন্য সেমিফাইনালে লড়বে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ