ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলে সরকারি ফ্রি খাবার খেয়ে অসুস্থ ২ হাজার শিক্ষার্থী-শিক্ষক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা খাবার খেয়ে মাত্র তিন দিনে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সেন্ট্রাল জাভা প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি মানুষ খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে অন্তত ৭৭৭ জন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আক্রান্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেকের শরীরে তীব্র ডায়রিয়া, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা এবং অনবরত বমির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশন করা খাবারের মেন্যুতে গ্রিল করা মুরগির মাংস ছিল। পরে ওই খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হলে তাতে পচন এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবার সংরক্ষণ, প্রস্তুত বা সরবরাহের কোনো পর্যায়ে দূষণের কারণে এ বিষক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্কুলে সরকারের এই বিনামূল্যের খাবার খেয়ে শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় কর্মসূচিটির খাদ্য নিরাপত্তা ও খাবার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দেশটির কোটি কোটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর অপুষ্টি দূর করা এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর কয়েকশ কোটি ডলারের এই বড় পরিসরের খাদ্য কর্মসূচি চালু করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো। কর্মসূচির আওতায় স্কুলের শিক্ষার্থীসহ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
কিন্তু চালুর পর থেকেই কর্মসূচিটি নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সর্বশেষ কয়েক দিনের ঘটনায় সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ায় খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে খাবারের মান পরীক্ষা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :