ভয়াবহ বন্যার পর যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীনের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর বিশ্বের প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে জলবায়ুজনিত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যে ক্ষতির মুখে পড়ছে, তার দায় বিশ্বের বৃহৎ নিঃসরণকারী দেশগুলোকে নিতে হবে।
এক সপ্তাহ আগে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের অন্তত তিনটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তিব্বত-নেপাল সীমান্তের উচ্চভূমিতে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ১ হাজার ১০০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা পেতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে নেপাল। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল স্পষ্ট করেছেন, নেপাল এই সহায়তাকে কেবল দয়া বা মানবিক অনুদান হিসেবে দেখতে চায় না। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য এটিকে নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খানাল বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রায় নগণ্য। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলোর একটি বহন করতে হচ্ছে দেশটিকে। দ্রুত হিমবাহ গলে যাওয়া, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বৈশ্বিক সংকটের চরম মূল্য দিচ্ছি, যে সংকট আমরা তৈরি করিনি। হিমবাহের দ্রুত গলে যাওয়া এবং এসব ভয়াবহ পাহাড়ি সুনামি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি পরিণতি।”
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান এখন ‘সহায়তা’ চাওয়ার পর্যায় থেকে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দাবিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি দয়ার বিষয় নয়, বরং নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়।
এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহৎ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করে এসব দেশের কাছে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান খানাল।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হিমালয়ের হিমবাহগুলো দ্রুত বিলীন হয়ে গেলে এর প্রভাব শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গঙ্গা, ত্রিশূলীসহ গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর পানির প্রবাহ হুমকির মুখে পড়লে দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তার দাবি, নেপালের এই লড়াই শুধু নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য নয়। বরং হিমালয় ও এর ওপর নির্ভরশীল পুরো দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ, পানি ও মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্যই জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে কাঠমান্ডু।
আপনার মতামত লিখুন :