হবিগঞ্জে নিবন্ধিতের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টমটম, বাড়ছে যানজট ও বিদ্যুৎ চাপ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারিচালিত টমটম ও অটোরিকশার সংখ্যা। তবে এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ এখনো বৈধ নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে যানজট, অন্যদিকে টমটম ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুতের ওপরও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, হবিগঞ্জ পৌরসভায় নিবন্ধিত টমটমের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি। অথচ শহর ও আশপাশের এলাকায় বাস্তবে চলাচল করছে ৫ থেকে ৭ হাজারের বেশি টমটম। স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনেও অতিরিক্ত ও অনিবন্ধিত টমটম চলাচলের বিষয়টি উঠে এসেছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাও কম নয়। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে হবিগঞ্জ শহরে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি চার্জিং গ্যারেজ। সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও অর্ধশতাধিক গ্যারেজে টমটম ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অতিরিক্ত টমটমের কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানজটও দিন দিন বাড়ছে। অনিবন্ধিত টমটমের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত জুলাইয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভা অভিযান চালিয়ে ৩০টি টমটম আটক করে। যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বিধিমালায় এসব যানবাহনকে নিবন্ধন ও নবায়নের আওতায় আনার পাশাপাশি বিভিন্ন শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা চার্জ করলে জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে নতুন করে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নিবন্ধনের পর সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য উৎসে চার্জ করলে পরবর্তী সময়ে নবায়নও করা হবে না।

নতুন ব্যবস্থায় সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নিবন্ধনের সময় সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করার শর্তসহ অন্যান্য বিষয়ও নির্ধারণ করা হবে।

সচেতন মহলের মতে, হবিগঞ্জ শহর ও সদর উপজেলার বিপুলসংখ্যক টমটম ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রতিদিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে যানবাহনগুলোর জন্য আলাদা বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হচ্ছে। চার্জিং গ্যারেজগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও সম্ভব।

তাদের মতে, প্রতিটি চার্জিং গ্যারেজে সৌর প্যানেল স্থাপন করে দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, হবিগঞ্জ শহরে যেখানে নিবন্ধিত টমটমের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০০, সেখানে বাস্তবে কয়েকগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে। তাই শুধু নিবন্ধন ও নবায়ন নয়, চলাচলরত টমটম ও অটোরিকশার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ, সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং চার্জিং গ্যারেজগুলোকে নিয়মের আওতায় আনা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিধিমালা কার্যকর করার পাশাপাশি হবিগঞ্জে চলাচলরত সব টমটম ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে চার্জিং গ্যারেজগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও এগিয়ে যেতে পারবে হবিগঞ্জ।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ