লোভাছড়া মামলায় তদন্তে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, মামলা পুনঃতদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
মুফিজুর রহমান নাহিদ, স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া শ্রমিক নির্যাতন ও পাথর লুটপাটের দুটি মামলার তদন্তে অনিয়ম, প্রকৃত আসামিদের রক্ষা এবং নিরীহ শ্রমিকদের হয়রানির অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে লোভাছড়া লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং সিলেট-৮০, সিবিএ)।
বুধবার (১৫ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান।
তারা বলেন, গত ৬ আগস্ট ২০২৫ লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে অনিয়ম, শ্রমিক নির্যাতন, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পাথর লুটপাটসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর একটি দাবি প্রত্যাহার করে ৭ দফা দাবিতে অটল থাকেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় জি.আর. নং ১৩৪/২৫ এবং পাথর লুটপাটের ঘটনায় জি.আর. নং ১৩৫/২৫ মামলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মামলা হওয়ার পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। এমনকি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই আদালতে একটি মিথ্যা আপসনামা দাখিল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।
তাদের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনে পিয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান তুহিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং মামলার গুরুতর ধারাগুলো বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত লঘু ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তদন্ত কার্যক্রম গোপনে পরিচালিত হওয়ায় সময়মতো আদালতে আপত্তি জানানোর সুযোগও তারা পাননি বলে দাবি করেন।
শ্রমিক নেতারা জানান, ৭ জুলাই ২০২৬ আদালত মামলার প্রধান আসামি তমিজ উদ্দীন পলাতক থাকায় তার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান তারা।
পাথর লুটপাট মামলার তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, দীর্ঘ নয় মাস তদন্তের পর প্রকৃত দায়ীদের বাদ দিয়ে নিরীহ দুই শ্রমিক ও কয়েকজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে। তাই তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, সরকার অনুমোদিত সময়ের বাইরে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে প্রায় ১৫ লাখ ৬১ হাজার ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
এছাড়া, পাথর লুটপাটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে, যা তারা হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, বকেয়া পরিশোধ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি দ্রুত চালু, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :