টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রোয়াংছড়ির কৃষিতে বিপর্যয়, নিঃস্ব শত শত কৃষক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
চিংনুমং মারমা, রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি :
টানা আট দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার কৃষি খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। বন্যার পানিতে শত শত একর ফসলি জমি, সবজিক্ষেত এবং মাছের খামার তলিয়ে গিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বছরের পর বছর পরিশ্রমে গড়ে তোলা জীবিকার অবলম্বন হারিয়ে অনেক কৃষক এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার বাজারপাড়া, ওয়াগইপাড়া, বটলীপাড়া, লাপাইগইপাড়া, গ্রোক্ষ্যংপাড়া, কাইন্তারমুখপাড়া, অংগ্যপাড়া, রেতছড়ামুখ ও তালুকদারপাড়াসহ বিভিন্ন দুর্গম ও সমতল এলাকা। বন্যার পানিতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় মাঠের পর মাঠ ফসল ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কৃষক পরিবারগুলো।
ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বপ্ন, পরিশ্রম করে গড়া সব শেষ। বানের পানিতে সব মূলধন ভেসে গেছে। এখন বাঁচার আর কোনো পথ দেখি না।” তার এই আর্তনাদ যেন রোয়াংছড়ির অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরই বাস্তব চিত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক বন্যায় শুধু কৃষিজমিই নয়, মাছের খামারগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক পুকুর ভেসে যাওয়ায় চাষ করা মাছ পানির স্রোতে চলে গেছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি ও মৎস্য খাতে এই ব্যাপক ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে পারে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল, বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত না হলে অনেক কৃষকের পক্ষে আবারও উৎপাদনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার এবং একটি সমন্বিত পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :