পদত্যাগের পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান, পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
চিংনুমং মারমা :
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর অবশেষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত সোমবার মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তিনি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। তবে তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অনুসারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, মিছিল-মিটিং ও বিক্ষোভ শুরু হলে সেই নীরবতা ভাঙেন তিনি।
ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরামর্শকদের পরামর্শেই এতদিন তিনি প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। কিন্তু দীর্ঘ নীরবতায় নানা গুঞ্জন ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়ায় অবশেষে বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন দীপেন দেওয়ান।
পোস্টে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণকে শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত। একই সঙ্গে কোনো উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার অনুরোধ জানান।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি নির্বিশেষে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্ব সবার সম্মিলিত।
রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের গুঞ্জন নাকচ করে তিনি স্পষ্টভাবে নিজের দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। তিনি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া–এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়েছেন এবং আজীবন বিএনপির আদর্শে কাজ করে যেতে চান।
পোস্টের শেষাংশে তিনি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি অটল। “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা”—এমন দৃঢ় ঘোষণা দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
সবশেষে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :