ইবোলার নতুন টিকা মানবদেহে পরীক্ষার পথে, যুক্তরাজ্যে দ্রুত প্রস্তুতি


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাসের একটি নতুন টিকা তৈরির কাজ করছেন, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মানুষের শরীরে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এই টিকা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সেই প্রযুক্তি, যা কোভিড মহামারির সময় সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন।

টিকা তৈরির এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়–এর গবেষকরা এবং যুক্তরাজ্যের টিকা উৎপাদন ও উদ্ভাবন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, পশ্চিম আফ্রিকায় সাম্প্রতিক ইবোলা সংক্রমণের ঘটনার পরই জরুরি ভিত্তিতে নতুন এই টিকা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই টিকাটি মানবদেহে পরীক্ষার প্রাথমিক ধাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। তবে টিকাটি কার্যকর ও নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতে আগে প্রাণীর ওপর এবং পরে মানুষের ওপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা চালাতে হবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হঠাৎ করে যদি ইবোলার প্রাদুর্ভাব তীব্র আকার ধারণ করে, তাহলে পরীক্ষামূলক টিকার জরুরি প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই তারা দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

গবেষকদের তথ্যমতে, এই টিকাটি আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। কারণ এতে এমন একটি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভাইরাসের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ভালো ফল পাওয়া গেলে চলতি বছরের শেষ দিকে বড় পরিসরে মানুষের ওপর টিকা পরীক্ষার কাজ শুরু হতে পারে।

ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু ঘটে। তাই দ্রুত কার্যকর টিকা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইবোলা ভাইরাসের মোট ছয়টি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মানুষের মধ্যে বড় আকারে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। এসবের একটি হলো বুন্দিবুগিও ধরন। ২০০৭ সালে উগান্ডায় এবং ২০১২ সালে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এই ধরনে বড় ধরনের সংক্রমণ দেখা যায়। তবে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ধরনটির আর বড় কোনো প্রাদুর্ভাব হয়নি। ইবোলার জায়ের ধরনটির জন্য টিকা থাকলেও, বুন্দিবুগিও ধরনের জন্য এখনো কার্যকর কোনো টিকা নেই।

বর্তমানে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান ইবোলা সংক্রমণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কোভিডের মতো ইবোলার টিকা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হবে না। বরং ‘বৃত্তভিত্তিক টিকাদান’ পদ্ধতিতে এটি ব্যবহার করা হতে পারে। এই পদ্ধতিতে যাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং যারা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, মূলত তাদেরকেই টিকা দেওয়া হয়।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ