জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণে জলবায়ু গুরুত্ব পাবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সুফল তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ‘জলবায়ু কূটনীতির মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জলবায়ু কূটনীতি জোরদার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে বাংলাদেশের যোগসূত্র বাড়াতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো পৃথক ‘জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ’ খোলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন তিনি।
এ ছাড়া আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বাংলাদেশের জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে কাজে লাগানো হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের নানা নেতিবাচক প্রভাবে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে। তাই বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় তাদের ঝুঁকি, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ব্যবহার ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাটজাত পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন দূষণকারী উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সরকারের বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :