মধ্যনগরে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

সাইদুর রহমান জিয়া, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদানে অনীহা এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানান লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মধ্যনগর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আলী হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে আলী হোসেন বলেন, লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ‘ক’ ও ‘খ’ শাখা পৃথক হওয়ার পর প্রশাসনের নির্দেশে কলেজ শাখা পরিচালনার দায়িত্ব তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিভিন্ন দপ্তরে দাখিলের পর তিনি কলেজ শাখার দায়িত্ব পালন করেন।

আলী হোসেনের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং আদায়কৃত অর্থের যথাযথ হিসাব না রাখার অভিযোগ ওঠে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য ফি বাবদ শিক্ষার্থীভেদে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। তবে রসিদে তুলনামূলক কম টাকা উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কত টাকা দিয়েছে এবং এর বিপরীতে কত টাকার রসিদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পরে ট্রাস্ট ও গভর্নিং বডির সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে গত দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর সহযোগিতায় গত দুই বছরের বিভিন্ন কাগজপত্র ও বেতন আদায়ের রসিদ পর্যালোচনা করে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তাকে আগামী মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে আর চাকরি না করার কথা জানানো হয় বলেও দাবি করেন আলী হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি আড়াল করতে একজন সাংবাদিককে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আলী হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া না হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ