শিক্ষকদের বকেয়া ভাতা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধার অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ ভাতার জন্য অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকরা এখন অর্থ পেতে শুরু করেছেন। সারাদেশের ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাতা পাবেন।
তিনি বলেন, আজকের দিনটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাদের প্রাপ্য অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সরকারের জন্যও আনন্দের।
তবে শিক্ষকদের বকেয়া অর্থের পুরোটা একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন। পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের বাকি পাওনা পরিশোধ করা হবে।
অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ সংকটের পেছনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা অর্থের একটি অংশ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। তবে সরকারি ব্যাংকে থাকা কিছু অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ছয় শতাংশ ও চার শতাংশ হারে অনুদান দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি ট্রাস্টের প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ড সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ থেকে অর্জিত আয় কাজে লাগিয়ে সুবিধাভোগীদের বাকি পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
তিনি বলেন, অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগী রয়েছেন। আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের বাকি পাওনাও পরিশোধ করা হবে।
বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের অবসরের পর সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে বিদায় দেওয়া যথেষ্ট নয়। এই উপলব্ধি থেকেই কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথমে ১৪ কোটি এবং পরে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে ট্রাস্টের কার্যক্রম শুরু হয়।
এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেসরকারি শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার ধারাও তখন শুরু হয়েছিল। ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের মর্যাদা ও কল্যাণে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি তাদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করবে।
আপনার মতামত লিখুন :