রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসলে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : হাদিসের শিক্ষা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

ধর্ম ডেস্ক :

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের দাবি নয়, বরং তাঁর আদর্শ অনুসরণ, ত্যাগ এবং ধৈর্যের মধ্য দিয়েই সেই ভালোবাসার সত্যতা প্রমাণিত হয়। একটি সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি করা এক সাহাবিকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন।

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে ভালোবাসি।” তখন মহানবী (সা.) তাকে বলেন, “তুমি যা বলছ, তা ভেবে-চিন্তে বলো।” ব্যক্তি একই কথা তিনবার পুনরাবৃত্তি করলে রাসুল (সা.) বলেন, “যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো, তাহলে দারিদ্র্যের জন্য বর্ম প্রস্তুত করে রেখো। কেননা, যে আমাকে ভালোবাসবে, তার কাছে দরিদ্রতা পানির স্রোতের শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর চেয়েও দ্রুত চলে আসবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৩৫০)

এই হাদিস থেকে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রাসুল (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা মানে তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহর পথে আসা কষ্ট, ত্যাগ ও পরীক্ষাকে ধৈর্যের সঙ্গে মেনে নেওয়া। নবী-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম ও নেককারদের জীবন ছিল নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পরিপূর্ণ। তাই একজন মুমিনের জীবনও পরীক্ষা থেকে মুক্ত নয়।

হাদিসে দারিদ্র্যের উল্লেখ থাকলেও এর মূল শিক্ষা হলো, দ্বীনের পথে চলতে গিয়ে মানুষ দুনিয়াবি স্বার্থ, আরাম-আয়েশ কিংবা সম্পদের কিছু অংশ ত্যাগ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ধৈর্য, আল্লাহর প্রতি ভরসা এবং আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরই তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।” (সুরা জুমার: ১০)

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, “মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ; এরপর যারা তাঁদের অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৩৯৮)

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। তবে সেই ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে তাঁর আদর্শ অনুসরণ, ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে দুনিয়ার সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ