নারী জাগরণের অগ্রদূত ও নারীর অধিকার আন্দোলনে যা করেছিলেন রোকেয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
অনলাইন ডেস্ক :
নারী জাগরণের অগ্রদূত ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। বেগম রোকেয়া নামে যিনি পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, সমাজসংস্কারক, চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক।
বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুদিনকে ঘিরে প্রতিবছর পালিত হয় 'রোকেয়া দিবস'। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে রোকেয়ার জন্ম। ১৯৩২ সালের একই দিনে ভারতের কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বেগম রোকেয়া ছিলেন উপমহাদেশে নারী শিক্ষার অন্যতম পথপ্রদর্শক। তার জীবদ্দশায় তিনি যেসব কাজের মাধ্যমে নারী জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, সেগুলো হলো-
বেগম রোকেয়া বিশ্বাস করতেন, নারীর মুক্তির প্রধান শর্ত শিক্ষা। ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে কলকাতায় একই স্কুলকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত করে তোলেন, যা মুসলিম মেয়েদের জন্য শিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
১৯১৬ সালে তিনি বাঙালি মুসলিম নারীদের সংগঠন আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠন নারীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বনির্ভরতা, সামাজিক সচেতনতা সম্পর্কে কাজ করতো।
সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নারীর অধিকার
মিসেস আর এস হোসেন নামে সেকালের বিখ্যাত পত্রপত্রিকায় লিখতেন রোকেয়া। গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস কিংবা কবিতা- সব মাধ্যমেই নারীর অধিকার, স্বাধীনতা ও শিক্ষার কথা বলেছেন রোকেয়া। 'সুলতানার স্বপ্ন', 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ' এসব রচনার মাধ্যমে নারীর শোষণের চিত্র তুলে ধরেন এবং নারী মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। রোকেয়ার লেখার সুবাদেই নারী-পুরুষ সমতার দাবি এক শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।
কুসংস্কারবিরোধী আন্দোলন
কুসংস্কারের বিপক্ষেও রোকেয়ার ছিল সরব উপস্থিতি। নারীর ওপর চাপিয়ে দেয়া সামাজিক শৃঙ্খল ভাঙতে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। ভাষার বিকৃতি নিয়েও তিনি খোলাখুলি বলেছেন, 'এখানকার মুসলমানেরা মাতৃহীন অর্থাৎ তাহাদের মাতৃভাষা নাই। এমন বিকৃত উর্দু বলে যে, তাহা শুনিলে শ্রবণবিবর ক্ষত-বিক্ষত হয়।'
নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পক্ষে কাজ
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাকে নারী মুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে দেখতেন বেগম রোকেয়া। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেলাইশিল্প বা হস্তশিল্প শেখানোসহ নারীদের কাজ শেখানোর উদ্যোগ নেন তিনি। তিনি এও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন– শিক্ষিত নারীর দোষকে যেভাবে সমাজ কটাক্ষ করে, সেই তুলনায় অশিক্ষিত নারীর দোষ কমই গণ্য করা হয়।
১৯২৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলার নারী শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলন। সেখানে সভাপতিত্ব করেন রোকেয়া। ১৯৩০ সালে বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে জোরালো বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, বিভিন্ন সভা-সমিতিতে বক্তৃতার মাধ্যমে নারীশিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের কথা প্রচার করেন তিনি। নারীকে ঘোমটার আড়াল থেকে বের হয়ে সামাজিক জীবনে সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার কথা বলেন।
নারী সমাজকে উদ্দেশ করে বেগম রোকেয়া বলেছিলেন– 'অতএব জাগো, জাগো গো ভগিনি!' এ কথা অনস্বীকার্য, বেগম রোকেয়ার প্রগতিশীল ও সংগ্রামী জীবনই আজকের বাংলার নারী জাগরণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :