জামায়াত থেকে বহিষ্কার গাজী নজরুল ইসলাম, এমপি পদ থাকবে কি না প্রশ্নে আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনার মধ্যেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এ বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার জামায়াত এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বিষয়টি নিয়ে তারা নজর রাখছে এবং গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার প্রকাশিত বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল দলটি।
এর একদিন পরই দলীয় তদন্তের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হলো।
এমপি পদ হারাবেন কি?
গাজী নজরুল ইসলাম দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও এর ফলে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হতে পারে।
তবে দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থার কারণে সরাসরি সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার কোনো বিধান নেই। অন্যদিকে, কোনো ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে অযোগ্য ঘোষিত হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তার সদস্যপদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এ কারণে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পরও গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে উদ্ভূত আইনি ও সাংবিধানিক পরিস্থিতির ওপর।
আপনার মতামত লিখুন :