পরপর দুই ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলায় নিহত ৫৮৯, জরুরি অবস্থা জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলা। এতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ জনে। আহত হয়েছেন হাজারো মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া প্রিয়জনদের খোঁজে প্রতিবেশীরা একে অপরকে সহায়তা করে উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। সংবাদটি প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলেন, মানুষকে জীবিত উদ্ধারের মুহূর্তগুলো তাদের জন্য মানসিকভাবে শক্তি জোগায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুধু রাজধানী কারাকাস শহরেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস জানান, আফটারশকের আশঙ্কায় বহু মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।
অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাজধানীর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :