ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার পথে, জেনেভায় স্বাক্ষরের সম্ভাবনা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী রবিবারের মধ্যেই এই সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে। সম্ভাব্য স্বাক্ষরস্থল হিসেবে জেনেভা, সুইজারল্যান্ড এর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

রয়টার্স জানায়, চুক্তির ভাষা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, শুধু তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ নয়, একই সঙ্গে লেবাননে ও যুদ্ধ বন্ধ থাকতে হবে। সেখানে বর্তমানে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

সূত্র অনুযায়ী, শনিবারের মধ্যেই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে বলেই নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি কার্যকর সমাধান করেছি।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, খসড়া চুক্তিতে তেহরানের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পারমাণবিক ইস্যুটি আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে।

ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানায়, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশ থেকে সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। পাশাপাশি দেশটির যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।

সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যায় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে। ইউরোপীয় লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দুই শতাংশের বেশি কমে যায়। ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে।

তবে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা স্মারকের পক্ষভুক্ত নয় তারা।

সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, একটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল আটকে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সব মিলিয়ে, চুক্তি স্বাক্ষর হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের মোড় আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ