সরকারি সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সাতজনের বৈঠক, যা বললেন তৌহিদ হোসেন


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

অনলাইন ডেস্ক :

অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়মিত একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ থেকেই আসত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাত সদস্যের এই অনানুষ্ঠানিক ক্যাবিনেট প্রতি মঙ্গলবার বৈঠকে বসত এবং সেখানেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

সোমবার দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজের মন্ত্রণালয়েই একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব থাকায় তিনি কয়েকবার পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন। তবে প্রতিবারই তাকে অনুরোধ করে থেকে যেতে বলা হয়। তৌহিদ হোসেনের দাবি, সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও উচ্চপর্যায়ে তাদের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো, যা তার কাজকে জটিল করে তুলেছিল।

তিনি জানান, একবার যমুনায় কিচেন ক্যাবিনেটের একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরই বুঝতে পারেন যে নিয়মিতভাবে একটি ছোট গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয়। তার কথায়, বাইরে থেকে এসব আলোচনা কানে এলেও ভেতরে এমন একটি কাঠামো আছে, তা তিনি আগে জানতেন না।

ভোটের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি জানান, বিষয়টি দেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তার মতে, কোনো জরুরি বাধ্যবাধকতা না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত ছিল।

দায়িত্বকালে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি পাঠানো হলেও তাতে ফল আসবে না, সেটি তিনি আগেই জানতেন বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত- এই তিন শক্তিকে সামলানোই তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ডিপ স্টেট সাধারণত ঘটনার স্রোতের বিপরীতে যায় না; বরং পরিস্থিতিকে নিজেদের মতো করে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও নিজের মত দেন তিনি। তার ধারণা, দলটি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না। মানুষের স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হবে এবং সম্ভবত আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ