চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর উদ্যোগে মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন নির্দেশনা ও উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, থানায় সেবাপ্রার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়নের পর তাঁর দায়িত্বাধীন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম সামনে আসে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন ১১টি জেলার পুলিশকে আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব করে তোলার পাশাপাশি অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান
মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তাঁর দায়িত্বাধীন রেঞ্জে মাদক কারবারের খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাদক ব্যবসায় পুলিশের কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় ২৪৩টি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অভিযানে ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ১৯ হাজার ৪২০টি ইয়াবা, ১৩৯ কেজি ৬৫১ গ্রাম গাঁজা এবং ৫৫ লিটার ৯০০ গ্রাম দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬১টি মামলা করা হয়। একই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে আরও ৭০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই অভিযানগুলো রেঞ্জজুড়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
কিশোর গ্যাং ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স
মাদক কারবারের পাশাপাশি কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডিআইজি। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অপরাধীদের পাশাপাশি অপরাধের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে ও দ্রুত সম্পন্ন করা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচারের পথ বন্ধে সমন্বিত অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ও দ্রুত আইনি সহায়তা
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশি কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন থানার কার্যক্রম, টহল দলের চলাচল এবং অপরাধপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া থানায় সেবা নিতে আসা নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তাঁর নির্দেশনায় বিট পুলিশিং জোরদার করা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা এবং থানাকে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
মহাসড়কে নিরাপত্তা ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা
চট্টগ্রাম রেঞ্জের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় মহাসড়কের নিরাপত্তা ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তজেলা মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পণ্যবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ তিন চাকার যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব উদ্যোগের ফলে দুর্ঘটনা বা অপরাধ কতটা কমেছে, সে বিষয়ে তুলনামূলক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
জনগণের পাশে থেকে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল দায়িত্ব শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং অপরাধ প্রতিরোধ, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর বিভিন্ন নির্দেশনায় অপরাধ দমনের পাশাপাশি জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের পেশাদার, মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিস্তৃত এলাকায় এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনার বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি, তদন্তের মান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পরিসংখ্যান এবং জনগণের পুলিশি সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতার ওপর। তাই মাদকবিরোধী অভিযান, কিশোর গ্যাং দমন, মহাসড়কের নিরাপত্তা ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণে সহজতা, দ্রুত আইনি সহায়তা এবং নিরপরাধ মানুষের অধিকার সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—চট্টগ্রাম রেঞ্জের প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বিপদে-আপদে নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে পুলিশ জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে। ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নেতৃত্বে গৃহীত উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে জননিরাপত্তা জোরদার এবং জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠার পথে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :