পাবনায় শিশু কলি ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামির বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মো: শাখাওয়াৎ হোসেন, পাবনা জেলা প্রতিনিধি :

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বহুতল বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে স্থানীয় লোকজন বাড়িটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকার লোকজন একত্র হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে যান। পরে তাঁরা বাড়িটির বিভিন্ন অংশে হামলা ও ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ভাঙচুরে অংশ নেওয়া স্থানীয় কয়েকজন জানান, ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে ক্ষুব্ধ। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভাঙচুরের খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ ছিল। তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

পুলিশ জানিয়েছে, শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাঁদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তাঁরা অংশ নেন।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ