বরিশালে মানব পাচার মামলায় দুই আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
মো: বায়োজিদ হোসেন, বরিশাল ব্যুরো প্রধান :
বরিশাল নগরীর হরিনা ফুলিয়া এলাকার মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অপর এক ধারায় প্রত্যেক আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। উভয় সাজা একত্রে চলবে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার উত্তর কেড়য়া এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে শাহ ইমরান সাগর (৪২) এবং হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার দত্তপাড়া এলাকার আনছার আলীর ছেলে মো. বাচ্চু মিয়া (৩৫)। আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
মামলার বাদী বরিশাল নগরীর হরিনা ফুলিয়া এলাকার মোঃ বাচ্চু ফরাজির ছেলে মোঃ নবীন ফরাজি।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. তুহিন মোল্লা মামলার বরাত দিয়ে জানান, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ বাদী নবীন ফরাজির বসতবাড়িতে এসে আসামিরা চার লাখ টাকার বিনিময়ে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে দুবাই পাঠায়। দুবাই পৌঁছানোর পর মানব পাচার চক্রের সদস্যরা নবীনকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা পরিশোধের পর নবীনের পাসপোর্ট ও ভিসা ফেরত দিয়ে তাঁকে দেশে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নবীন ফরাজি ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শিহাব উদ্দিন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস. এম. সরোয়ার হোসেন বলেন,
“আদালতের এই রায় মানব পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে যুক্ত হওয়ার আগে সবাই একবার ভাববে।”
নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :