ইরান সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি বিমান ও ড্রোন হারানোর দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান ও ড্রোন হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষ এখনো চলমান, অনেক তথ্য গোপনীয় এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত যাচাই সম্পন্ন হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিআরএসের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে চারটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ–৩৫এ লাইটনিং–২, একটি এ–১০ থান্ডারবোল্ট–২ স্থল-আক্রমণকারী বিমান, সাতটি কেসি–১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি ই–৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিমান। পাশাপাশি দুটি এমসি–১৩০জে কমান্ডো–২ বিশেষ অভিযানকারী বিমান, একটি এইচএইচ–৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন–২ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ–৯ রিপার এবং একটি এমকিউ–৪সি ট্রাইটন চালকবিহীন বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে সিআরএস জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন, পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছে।
এদিকে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট তৃতীয় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের বাড়তি ব্যয়ের কারণে মোট খরচ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। ওই হামলায় আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিআরএসের প্রতিবেদন শেয়ার করে সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বলেন, এই যুদ্ধ থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে।
আপনার মতামত লিখুন :