থাইল্যান্ডে মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ভিক্ষু ও নারী সহযোগী গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
থাইল্যান্ডে একটি মঠের প্রায় ১০ কোটি বাথ আত্মসাতের অভিযোগে এক বৌদ্ধভিক্ষুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী এক নারী সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে ভিক্ষুটির অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিওও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৬৬ বছর বয়সী ফ্রা ওয়াচিরায়ান উই প্রাচীন রাজধানী আয়ুথায়ার বিখ্যাত ১৪শ শতকের ওয়াত ফুত্থাইসাওয়ান মন্দিরের সাবেক প্রধান ভিক্ষু ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই বছর ধরে ২০টির বেশি ঘটনায় মন্দিরের জন্য পাওয়া অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ব্রহ্মচর্য পালনের শপথ নিতে হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পদ ত্যাগের অঙ্গীকারও করেন তারা। গ্রেপ্তারের পর ফ্রা ওয়াচিরায়ানকে ভিক্ষুর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
পুলিশ শুক্রবার জানায়, মন্দিরের নামে দেওয়া অনুদানের রসিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের দুটি পৃথক প্রবাহ শনাক্ত করা হয়েছে। এর একটি মন্দির সংস্কারের জন্য দেওয়া অনুদান এবং অন্যটি তাবিজ ও অন্যান্য ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রির অর্থ। তদন্তে দেখা গেছে, এসব অর্থের কোনো অংশই মন্দিরের হিসাবে জমা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা পাত্তানাসাক বুপ্পাসুওয়ান বলেন, ‘কিন্তু এই দুই খাতের কোনো টাকাই মন্দিরের হিসাবে জমা হয়নি। এক বাথও নয়।’
থাই সংবাদমাধ্যম দ্য নেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফ্রা ওয়াচিরায়ানের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে ১০ কোটিরও বেশি বাথ মূল্যের নগদ অর্থ ও সোনার বার পাওয়া যায়। পরে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার সময় পুলিশ একটি ভিডিও দেখতে পায়, যেখানে তাকে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে দেখা যায়।
পুলিশ ওই নারীকে ৪৭ বছর বয়সী পুন্যাভি রানরুয়াং হিসেবে শনাক্ত করেছে। অবৈধ কাজে এক সরকারি কর্মকর্তাকে সহায়তার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনিও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। থাইল্যান্ডের অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু সরকারের কাছ থেকে ভাতা পাওয়ায় তাদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।
পুলিশ পুন্যাভির বাড়ি থেকে ৩৫টি সোনার তাবিজ, প্রায় দেড় কেজি সোনার বার ও স্বর্ণালংকার জব্দ করেছে। এসবের মোট মূল্য প্রায় ৬০ লাখ ৪০ হাজার বাথ। তদন্তকারীদের ধারণা, মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের পর সেই অর্থ ব্যবস্থাপনায় ফ্রা ওয়াচিরায়ানকে সহায়তা করেছেন পুন্যাভি।
দ্য ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর পুন্যাভির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোটি কোটি বাথ লেনদেন হয়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বেনামি একটি অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই অভিযোগে ফ্রা ওয়াচিরায়ানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও মন্দিরের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ফ্রা ওয়াচিরায়ান বিভিন্ন ধরনের জনপ্রিয় ও মূল্যবান মুদ্রা-আকৃতির তাবিজ তৈরির জন্যও পরিচিত ছিলেন। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের কাছেও তার তৈরি কিছু তাবিজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ঘিরে ভিক্ষুদের ব্রহ্মচর্যের শপথ ভঙ্গ, মাদক পাচার ও আর্থিক অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। গত বছরের জুলাইয়ে পুলিশ ‘অসদাচরণকারী ভিক্ষুদের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি হটলাইনও চালু করেছিল। এর আগে অন্তত নয়জন ভিক্ষুর সঙ্গে এক নারীর যৌন সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ওই নারী ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ভিক্ষুদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার আদায়ের জন্য ব্ল্যাকমেইল করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, বর্তমান ঘটনায় ফ্রা ওয়াচিরায়ান ও পুন্যাভি ছাড়াও আরও দুই থেকে তিনজন জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন :