পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম. এ. মজিদের অপসারণ দাবি, ব্যানার ঘিরে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক এম. এ. মজিদের নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এবার তাঁর অপসারণের দাবিতে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ব্যানার টানানো হয়েছে।
ব্যানারে এম. এ. মজিদকে ‘দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ ও অরাজনৈতিক’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। ব্যানারে আয়োজক হিসেবে ‘পঞ্চগড়বাসী’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নবনিযুক্ত প্রশাসক এম. এ. মজিদের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আব্দুল মজিদ সাবেক স্পিকারের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি, অনিয়ম ও টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিতর্কিত ছিলেন। ঘাস কাটার টেন্ডার, কার্পেট চুরি এবং সংসদীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়মের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তাঁর পোস্টে কোনো নথি বা তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়নি।
রোকনুজ্জামান জাপান আরও দাবি করেন, গত ১৭ বছরে পঞ্চগড়ের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে এম. এ. মজিদকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। একই সঙ্গে তাঁর নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা জনসম্মুখে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
জেলা ছাত্রদল নেতার এমন বক্তব্যের পর বিএনপি জেলা কার্যালয়ের সামনে এম. এ. মজিদের অপসারণের দাবিতে ব্যানার টানানোর ঘটনায় জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম। তাঁর মৃত্যুর পর জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদটি শূন্য হয়। এর মাত্র সাত দিনের মাথায়, ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম. এ. মজিদকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তবে নবনিযুক্ত প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁকে অপসারণের দাবিতে ব্যানার টানানোর বিষয়ে এম. এ. মজিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :