রাতের পার্টিতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ, শ্বশুর হত্যায় পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে ৬৩ বছর বয়সী এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে সাবেক গৃহকর্মীকে ভাড়া করে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক বিরোধ, বাড়ির ভেতরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্য শ্বশুরের কাছে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই পুত্রবধূর ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম বিনীত মিনোচা। গত শনিবার রাতে কানপুরে নিজের ফ্ল্যাটে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে ছুরির ২৬টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় বিনীতের ৩৬ বছর বয়সী পুত্রবধূ শালুর বিরুদ্ধে সাবেক এক গৃহকর্মীকে দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানায়, ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর পরিবারের সাবেক কর্মী ৩০ বছর বয়সী বিশাল ও তাঁর সহযোগী রাজ কিশোরের ওপর সন্দেহ হয়। রবিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বিশাল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তকারীদের কাছে বিশাল জানিয়েছেন, হত্যার বিনিময়ে শালু তাঁকে ৬ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁকে ফ্ল্যাটের নকল চাবিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, শ্বশুরের আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন শালু। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির ভেতরে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হতো। রাতে পার্টিতে যাওয়া কিংবা দেরি করে বাড়ি ফেরাও শ্বশুর পছন্দ করতেন না। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত খরচের জন্যও শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতে হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পুলিশের দাবি, গত ২৮ জুলাই পার্টি থেকে দেরিতে বাড়ি ফেরার পর শ্বশুরের সঙ্গে শালুর তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপরই তিনি বিশালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে শালুর স্বামী সুব্রত ও সন্তানকে নিয়ে পার্টিতে যাওয়ার পর বিশাল ও রাজ কিশোর ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তারক্ষী প্রথমে তাদের বাধা দিলেও ফোনে শালুর সঙ্গে কথা বলার পর তাদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, শুরুতে বালিশ চাপা দিয়ে বিনীতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরে তাঁকে ছুরি দিয়ে ২৬ বার আঘাত করা হয়।

রাত প্রায় ৩টার দিকে শালু ও তাঁর স্বামী সুব্রত বাড়ি ফিরে বিনীতকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ফ্ল্যাট থেকে কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি না হওয়ায় শুরু থেকেই ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখেনি পুলিশ। বরং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল। সেই সূত্র ধরেই সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ