অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি ছাড়া এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় : তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
- প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
নিউজ বাংলা ডেস্ক :
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে যদি অর্থনীতি-বান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তাহলে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাণিজ্য উন্নয়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞ আলোচনা শেষ পর্যন্ত তাত্ত্বিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। জনগণের কল্যাণে এসব আলোচনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর দেশের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ কমবে না, বরং আরও জটিল হবে। সরকার ইতোমধ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে এই বাড়তি সময় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগানো যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু বাজারে তুলনামূলক কম চ্যালেঞ্জ থাকলেও অন্যান্য রফতানি গন্তব্যে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাই বর্ধিত সময়ের মধ্যে নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রফতানি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি জরুরি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতিসংঘ প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে দেশের বাস্তবতায় কোনগুলো কার্যকর করা সম্ভব, তা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে মানবসম্পদকে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে গঠিত এই সরকারের লক্ষ্য হলো রাজনীতির কাঠামোগত সংস্কার করে তা জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো।
কর্মশালায় উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামত সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ। কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :