দাম পড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় বান্দরবানের ড্রাগন চাষিরা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মথি ত্রিপুরা, বান্দরবান :

পুষ্টিগুণে ভরপুর ও স্বাস্থ্যসম্মত ফল হিসেবে পরিচিত ড্রাগন ফল বা পিটায়া একসময় বান্দরবানের কৃষকদের কাছে ছিল আয়ের নতুন সম্ভাবনার নাম। উচ্চ বাজারমূল্য ও দ্রুত লাভের আশায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকভাবে এই ফলের চাষ সম্প্রসারিত হয়। তবে বর্তমানে বাজারে দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ড্রাগন চাষিরা।

বান্দরবান সদরসহ রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ড্রাগন ফলের চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হতো। সে সময় অনেকেই ড্রাগন চাষকে ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাষের পরিমাণ বাড়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলেই বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় এই মূল্য অনেক কম হওয়ায় লোকসানে পড়ছেন চাষিরা।

বান্দরবানের চিম্বুক এলাকার এক চাষি বলেন, ড্রাগন চাষে খুঁটি স্থাপন, সেচ, সার ও নিয়মিত পরিচর্যায় বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। অথচ এখন যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে খরচ ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক কৃষক জানান, আগে ড্রাগন চাষ লাভজনক ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বাগান করার আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে পাহাড়ি অঞ্চলে ড্রাগন চাষ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রাগন ফল শুধু সুস্বাদু নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকরও। এতে ভিটামিন-সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, খাদ্য-আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। নিয়মিত এই ফল খেলে হজমশক্তি বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়, রক্তশূন্যতা কমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

চাষিদের দাবি, ড্রাগন ফলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করা জরুরি। তা না হলে পাহাড়ে সম্ভাবনাময় এই ফলের চাষ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ড্রাগন চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ